মধ্যপ্রাচ্য সংকট

কেনিয়ার ফুল শিল্পে সপ্তাহে লোকসান দেড় মিলিয়ন ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে কেনিয়ার অন্যতম অর্থকরী খাত ফুল শিল্পে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়।

এক মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে চাহিদা হ্রাস ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রতি সপ্তাহে কেনিয়ার ফুলচাষীরা প্রায় ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ১৪ লাখ ডলার সমপরিমাণ লোকসান গুনছেন। খবর এপি।

কেনিয়া ফ্লাওয়ার কাউন্সিল (কেএফসি) জানিয়েছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় রফতানি খাতগুলোর একটি এখন বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। তিন সপ্তাহে লোকসান হয়েছে ৪২ লাখ ডলার।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লিমেন্ট তুলেজি জানান, বর্তমানে পণ্য পরিবহনের গতি কমে গেছে এবং দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে।

তিনি জানান, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ফুলের পরিবহন খরচ দাঁড়িয়েছে ৫ ডলার ৮০ সেন্টে, যা ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রাজধানী নাইরোবি থেকে ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ইসিনিয়া ফ্লাওয়ার ফার্মসের বিপণন ব্যবস্থাপক অনন্ত কুমার জানান, রফতানি আগের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৪ লাখ ৫০ হাজার স্টেম ফুল রফতানি হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র দেড়-দুই লাখে। ফলে উৎপাদিত ফুলের প্রায় ৫০ শতাংশই ফেলে দিতে হচ্ছে।

সাধারণত কেনিয়ার ফুলের ৭০ শতাংশ রফতানি হয় ইউরোপে এবং ১৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে ইউরোপগামী কার্গো ফ্লাইটগুলোও ব্যাহত হচ্ছে।

অনন্ত কুমারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সব এয়ারলাইনস কার্যক্রম বন্ধ রাখায় এবং ইউরোপীয় ক্যারিয়ারগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া (প্রতি কেজি ৫ ডলার) নেয়ায় ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কার্গো উড়োজাহাজ পাওয়াও এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে।

কেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশটির এ হর্টিকালচার খাতের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি ডলার। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সরাসরি এ শিল্পে কাজ করেন। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে করোনা মহামারীর মতো ভয়াবহ মন্দা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেনিয়া ফ্লাওয়ার কাউন্সিল এখন ইউরোপে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

আরও